Sunday, September 27

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হোক।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করা হয় মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার দুদককে দুর্বল করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার কমিশন না করে পুলিশকে বিরোধী দল দমনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় দেশের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর মতে, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

বাগেরহাটের জেলে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, পাঁচ মাস ধরে মিরাজ শেখের কোনো খোঁজ নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি এবং পরে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও সেখানে কোস্ট গার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর ও গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার সমালোচনাও করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মতপ্রকাশ বন্ধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি তানভীরের করা বক্তব্যের ভাষাকে সমর্থন করেন না এবং দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।

হবিগঞ্জে সংঘর্ষে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের চোখ হারানোর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এ ঘটনাকে বিরোধী মত দমনের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্তের দাবি জানান নাহিদ।

মানববন্ধনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ ফিরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, সাইবার আইনে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরও আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুরোনো কাঠামো নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবি জানান তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 3