Friday, August 14

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপি ও সরকারে নতুন করে পদবণ্টনের সমীকরণ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য—এই চারটি পদ থেকেই সরে যেতে হবে মির্জা ফখরুলকে। ফলে এসব পদে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে দল ও সরকারকে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে। সম্ভাব্য সমীকরণে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
রিজভী মহাসচিব হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে সংসদ উপনেতা পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খানের নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ফলে সংসদে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁকে উপনেতার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসবে। তবে সেখানে আপাতত নতুন মন্ত্রী নিয়োগ না দিয়ে দলের নতুন মহাসচিবকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সে ক্ষেত্রে রুহুল কবীর রিজভী মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
সরকারের মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এর ফলে এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন?
দলের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট হতে পারে। তবে এর আগেও সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও আসছে পরিবর্তন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদও শূন্য হবে। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও নতুন প্রার্থী দিতে হবে বিএনপিকে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করে কাজ করবেন তারা। তবে এখনো আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 8