ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতা-র ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি-কে ভবানীপুর আসনে পরাজিত করার পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে এবং “অ-ভারতীয়” ও অনুপ্রবেশকারীদের যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি দাবি করেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চেয়ে বাংলাদেশের জামায়াতপন্থিদের অস্বস্তি বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে এবং সীমান্ত সুরক্ষা তাদের অগ্রাধিকার। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ঘোষণাও দেন তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রোববার পার্ক সার্কাস এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গুণ্ডামি বা তোলাবাজি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
এদিকে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিত ভাতা বাতিল করে সেই অর্থ বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ প্রকল্পে ব্যয় করার ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং “তোষণের রাজনীতি” আর চলবে না।
এ সময় তিনি মমতা ব্যানার্জি-র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি অভিষেক ব্যানার্জি-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।

