যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ সমাপ্তির প্রক্রিয়া থেমে থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করে আবারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প লেখেন, “তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নয়তো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, সংঘাত নিরসনের জন্য তারা যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছিল, তার স্পষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের “আপসহীন অবস্থান” আলোচনায় অচলাবস্থার মূল কারণ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই বলেন, তেহরানের প্রস্তাব ছিল “দায়িত্বশীল” ও “উদার”।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল—

  • সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি
  • লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ
  • ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
  • ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা
  • যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ
  • হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি

এদিকে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্সের দাবি, জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি।

তবে শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার একটি সমঝোতায় তিনি রাজি হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত।

Leave A Reply


Math Captcha
− 4 = 1