ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় এক শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাসের বর্তমান সামরিক প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার গাজা শহরের রিমাল এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরে কাছাকাছি একটি সড়কে থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ–এর মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, লক্ষ্যবস্তু হওয়া ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। আকস্মিক হামলায় ভবনের একাংশ ধসে পড়ে এবং আগুন লেগে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল কাটজ বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ।
ইসরায়েলের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হামাসের সামরিক শাখার নেতৃত্বে আসেন হাদ্দাদ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাকে দায়ী করছে ইসরায়েল।
তবে হামাস এখন পর্যন্ত হাদ্দাদের অবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গত অক্টোবর মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি হলেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও গাজা পুনর্গঠন ইস্যুতে আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গাজা-পরবর্তী’ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল।
তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স

