Friday, November 6

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে জয় পেলেও, বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক নতুন বাস্তবতা—সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরতা আগের মতো ফল দিচ্ছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূলের জেতা ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টিতেই মুসলিম ভোটারের হার ২৫ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ, মোট জয়ের প্রায় ৯১ শতাংশই এসেছে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে। এতে স্পষ্ট, সংখ্যালঘু ভোট এখনো দলটির বড় ভরসা।

তবে একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে, এই ভোটব্যাংকে এবার বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে। রাজ্যে ২৫ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোটার রয়েছে—এমন ১৪৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৭৩টি। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৯। বিপরীতে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ধরনের আসনে এবার জিতেছে ৬৬টি, যেখানে গতবার তাদের দখলে ছিল মাত্র ১৬টি।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—যেসব আসনে মুসলিম ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, সেই ১৭টি আসনেও জয় পেয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালে এমন আসনে তাদের জয় ছিল মাত্র দুটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার নির্বাচনে দুইটি প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করেছে—একদিকে সংখ্যালঘু ভোট বিভক্ত হয়েছে বিভিন্ন দল যেমন কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ প্রভৃতির মধ্যে; অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে একদিকে—বিজেপির দিকে—সংগঠিত হয়েছে।

মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলো, যা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেও ফলাফল বদলেছে। আগে যেখানে প্রায় সব আসনেই জিতত তৃণমূল, এবার সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন দখল করেছে বিজেপি।

একই চিত্র দেখা গেছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানেও। এমনকি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও এবার কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘নির্ণায়ক’ হিসেবে পরিচিত সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণে এবার বড় পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের অভূতপূর্ব মেরুকরণও এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে পুরনো ভোটব্যাংক নির্ভর রাজনীতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
72 − 69 =