ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে Pakistan। তবে এ প্রচেষ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif ও সেনাপ্রধান Asim Munir-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলটি একই দিন ইসলামাবাদ ত্যাগ করে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর আগে ৮ এপ্রিল ইরান ও United States-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। পরবর্তীতে ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা দ্বিতীয় দফা আলোচনায় জটিলতা তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, Strait of Hormuz-এর নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো “অযৌক্তিক দাবি” মেনে নেবে না। ইসলামাবাদে বৈঠকে তেহরানের শর্তাবলি পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরেন আরাগচি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেন ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “অর্থহীন আলোচনার জন্য দীর্ঘ সফরের প্রয়োজন নেই, সব কার্ড এখন আমাদের হাতে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নয়।

এদিকে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফর শেষে Oman পৌঁছেছে। সেখানে গিয়ে আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 4