পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বুধবার তিনি তেহরান পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আব্বাস আরাগচি।

এই সফরকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ সফর করেন এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।

প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি এলাকায় নৌ অবরোধ আরোপ করেন। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে ট্রাম্প আসিম মুনিরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি বলেন, “ফিল্ড মার্শাল মুনিরই এখানে মূল চালিকা শক্তি। তিনি না থাকলে এ প্রক্রিয়া সফল হতো না।” তাঁর মতে, আলোচনার নেতৃত্ব মূলত সামরিক সদর দপ্তর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে সেনাপ্রধানের পদ অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একই সময়ে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক সফর করে আঞ্চলিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেন।

লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, আসিম মুনিরের ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের কারণে পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার সাফল্যের ওপর একদিকে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্ষমতার পরীক্ষা নির্ভর করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বড় চাপ পড়তে পারে।

তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

Leave A Reply


Math Captcha
74 + = 82