ইরান যুদ্ধ, বিচার ঝুলে থাকা এবং নির্বাচন—সব মিলিয়ে চাপের মুখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট:
কিছু প্রজাতির হাঙর বেঁচে থাকতে অবিরাম সাঁতার কাটে—থেমে গেলেই মৃত্যু। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থাও যেন অনেকটা তেমন। তাঁর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যুদ্ধকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ যুদ্ধ শুরু করার পেছনে নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করান বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এতে নাখোশ ছিলেন নেতানিয়াহু।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সময় নেতানিয়াহুর ফোনের পর আলোচনার পরিবেশ বদলে যায় এবং দীর্ঘ বৈঠক ভেস্তে যায়। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। ইরানের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হলেও নেতানিয়াহু তা অস্বীকার করেছেন।
এই সংঘাতে ইরানে তিন হাজারের বেশি এবং লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলাও যুদ্ধকে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও ঘুষের অভিযোগে তিনটি মামলার বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। এসব মামলার শুনানি বারবার স্থগিত করতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাত দেওয়া হয়েছে।
আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন। বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর সময় তাঁর প্রতি জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক জরিপে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একটি জরিপে মাত্র ১০ শতাংশ ইসরায়েলি এই যুদ্ধকে সফল বলে মনে করেছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কৌশল নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও জনসমর্থন কমে যাওয়ায় তাঁর কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা, বিবিসি, আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসি, চ্যাথাম হাউস।

