ইরানের ঘোষিত ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এসব শর্ত প্রকাশ করে ইরান। তবে এক অজ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানের প্রকাশিত শর্তগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়নি; বরং ভিন্ন শর্তে সমঝোতা হয়েছে।

অজ্ঞাত ওই মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যেসব শর্ত প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একমত নয় এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরানের প্রকাশ করা শর্তগুলো হলো—

১. আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না—যুক্তরাষ্ট্রকে নীতিগতভাবে এই অঙ্গীকার করতে হবে।
২. হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালী ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
৩. পারমাণবিক অধিকার: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
৪. প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর সরাসরি আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
৫. পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: তৃতীয় পক্ষের ওপর আরোপিত সব আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ বাতিল করতে হবে।
৬. জাতিসংঘের প্রস্তাব বাতিল: ইরানের বিরুদ্ধে থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার প্রস্তাব বাতিল: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বোর্ডের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বন্ধ করতে হবে।
৮. ক্ষতিপূরণ প্রদান: যুদ্ধের ফলে ইরানের আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৯. সৈন্য প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন যুদ্ধরত সৈন্য সরিয়ে নিতে হবে।
১০. সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি: লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাসহ সব ফ্রন্টে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
4 + 2 =