মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে দুই ধাপের একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পরিকল্পনাকে ‘যথেষ্ট ভালো নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক রাতেই ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, আর সেই রাত হতে পারে মঙ্গলবারই।
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আটটা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ছয়টা) পর্যন্ত চুক্তির সুযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানে ‘নরক নেমে আসবে’ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চায়। তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না এবং কোনো সময়সীমাও তারা মেনে নেবে না।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা
রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের পরিকল্পনায় দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, যাকে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের অবস্থান
ইরান শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো ধরনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিরতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ নতুন করে প্রস্তুতি নিতে পারে—এ আশঙ্কায় তারা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ছাড়া অন্য কিছু মানবে না।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে এক রাতেই পুরো ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও জানান, যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলা
যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের হামলায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। এক ইরানি নাগরিক বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কিছুই করতে পারছি না।”
সূত্র: রয়টার্স, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

