Saturday, November 7

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অর্জিত হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রেখেছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইলেও প্রয়োজনে সামরিক চাপ বজায় রাখছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বিমুখী নীতি’—একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে চাপ—স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। তার মতে, এসব কর্মসূচি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি।

তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়র বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ান পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি মূলত আত্মরক্ষামূলক এবং অসম শক্তির ভারসাম্য রক্ষার অংশ।

রুবিও আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বিমান ও নৌ সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে বলে দাবি করছে। এখন তাদের লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা। তিনি বলেন, “চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে কয়েক মাস নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগবে।”

ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুবিও। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পরিষ্কার নয় এবং সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে তা বোঝা কঠিন।

এদিকে ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের কিছু দেশের অসহযোগিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, স্পেনসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশপথ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি।

রুবিও সতর্ক করে বলেন, বিপদের সময় সহযোগিতা না পেলে ভবিষ্যতে এই সামরিক জোটের কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন।

Leave A Reply


Math Captcha
89 − = 83