Friday, November 6

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে ২৮ বছর বয়সী এক ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই নারীর সংস্পর্শে আসা দুই শতাধিক মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

মা’রা যাওয়া ওই টেকনিশিয়ানের নাম দারিয়া শিপিলোভা। শেলেখোভের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন তিনি। একটি ভাঙা টেস্টটিউব থেকে অত্যন্ত সংক্রামক নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াবাহী একটি টেস্টটিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তাকে শেলেখোভের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরে ১ অক্টোবর তার মৃ’ত্যু হয়।

কোয়ারেন্টাইনে দুই শতাধিক

শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা দুই শতাধিক মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরকুতস্ক অঞ্চলে সব ধরনের জনসমাগম ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ প্রথমে জানিয়েছিলেন, সেখানে ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক সংক্রমণের’ একটি সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তবে গত রোববার তিনি জানান, এটি মূলত অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার একটি ঘটনা। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে তার পেশাগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া যায়নি।

কোবজেভ আরও জানান, গত ১০ দিনের মধ্যে ওই ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মীর মধ্যে সংক্রামক রোগের উপসর্গ দেখা যায়নি। রোগীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে শনাক্ত ও পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ২ অক্টোবর জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রোস্পোট্রেবনাদজরের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান গভর্নর কোবজেভ। তিনি বলেন, সংস্থাটি পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় মহামারি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদভও গত ২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক নারী ‘সম্ভবত প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন’। তবে বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে প্লেগের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলেও তিনি জানান।

নিউমোনিক প্লেগ কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিক প্লেগ প্লেগের সবচেয়ে গুরুতর রূপ। সংক্রমণের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এর প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও তীব্র কাশি। অনেক ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে রক্তমিশ্রিত কফও বের হতে পারে। নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, নিউমোনিক প্লেগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু না করা হলে তা মারাত্মক হতে পারে। তবে দ্রুত, বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave A Reply


Math Captcha
44 + = 48