Friday, November 6

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে এক কো-পাইলট অপর পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ঘটনার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং উড়োজাহাজটি সবাইকে নিয়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি ছিল FZ1073। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে উড্ডয়নের পর বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠে। পরে অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি সাধারণ জরুরি সংকেত ৭৭০০ এবং পরে অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেত ৭৫০০ পাঠায়। এরপর বিমানটি তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

বিমানটি নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই পাইলটই আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাদের হিসাব নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আহত হয়েছেন। কো-পাইলটকে যাত্রী ও ক্রুরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করান।

ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্ধারে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তারা তেল আবিবে পৌঁছান। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।

নেতানিয়াহু যাত্রী ও ক্রুদের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং এর পেছনে কোনো সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। আল জাজিরাও জানিয়েছে, কথিত ছিনতাই বা বিধ্বস্তের চেষ্টার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ তখনও পাওয়া যায়নি।

ফ্লাইটটির যাত্রীসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
18 − = 17