মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা জাহরা মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর দল সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) ৩৯৫ আসনের পার্লামেন্টে ৯৭টি আসন পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতা বা নেত্রীকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন রাজা।
পেশায় আইনজীবী মানসুরি এর আগে মরক্কোর জাতীয় পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। তিনি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর মারাকেশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোট সরকার গঠনের আলোচনা
৩৯৫ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। ফলে মানসুরিকে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার গঠন করতে হবে।
নির্বাচনে পিএএমের পর ৬৬টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই)। ইস্তিকলাল পার্টি পেয়েছে ৬৫টি আসন। ইসলামপন্থি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন।
নির্বাচনের আগে পিএএম জানিয়েছিল, বিদায়ী সরকারের জোটসঙ্গী আরএনআইয়ের সঙ্গে তারা আবার জোটে যাবে না। তবে নির্বাচনের পর মানসুরি জোট গঠনের আলোচনায় কোনো দলের ক্ষেত্রেই ‘লাল রেখা’ রাখছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগের অধ্যায় পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান।
অন্যদিকে পিজেডির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরান জানিয়েছেন, তাঁর দল বিরোধী দলে থাকবে।
সামনে বড় দায়িত্ব
নতুন সরকারকে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির শেষ ধাপ তদারকি করতে হবে। মরক্কো স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কর্মসূচি চলছে।
এ ছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও জনসেবা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। এসব বিষয়ে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের প্রায় ৫০ শতাংশের তুলনায় কম।
মরক্কোয় এর আগেও নারীরা মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সরকারপ্রধান হিসেবে মানসুরির নিয়োগ দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম। তিনি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী; এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

