সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
আইএমওর মহাসচিবের নির্বাহী দপ্তরের প্রধান সচিব লুকা স্পাতারো শাফাক নিউজকে জানিয়েছেন, আটকে পড়া নাবিকদের সরিয়ে নিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সেখানে থাকা নাবিকদের নিয়মিত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
স্পাতারো বলেন, জুনে বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে ১৩৬টি জাহাজে থাকা প্রায় ২ হাজার ৯০০ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ওই উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, ওই ১৩৬টি জাহাজ ২৩ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আন্তর্জাতিক জাহাজে অন্তত ৮০টি হামলার ঘটনা আইএমও নিশ্চিত করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২২ নাবিক নি’হত হয়েছেন বলে সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত জাহাজ চলাচলের পথে কোনো অংশে মাইন থাকলে সেগুলো অপসারণের বিষয়েও কাজ করছে আইএমও। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌপথ মাইনমুক্ত করা জরুরি বলে জানান স্পাতারো। নৌপথ পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে সাময়িক বিকল্প পথ ব্যবহারের বিষয়েও কয়েকটি সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংঘাত শেষ হলে জাহাজে হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনায় সহায়তা করতে প্রস্তুত আইএমও। তবে সংঘাতের রাজনৈতিক ও মূল কারণ সমাধানের দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর বলে জানিয়েছেন স্পাতারো।
এদিকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা করছে আইএমও। স্পাতারো জানান, ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সদস্য দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে আইএমও।
তিনি বলেন, বাব আল-মান্দাব ও হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে এবং জাহাজ চলাচল যত বেশি ব্যাহত হবে, পণ্য সরবরাহে সংকট ও পরিবহন ব্যয় তত বাড়বে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।
হরমুজ এড়িয়ে ইরাক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের মতো বিকল্প প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পাতারো বলেন, এ ধরনের অবকাঠামো সহায়ক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ পণ্য একই গতি ও পরিসরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
তার মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার।

