Friday, November 6

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টের কক্ষ থেকে ২২ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর ম’রদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী যুবক আসিফ আলিকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সন্দেহজনক হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত নিমিষা ঠাকুরিয়া গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে গুয়াহাটির গারাল-ধরাপুর এলাকার একটি হোমস্টেতে আসিফ আলির সঙ্গে ছিলেন তিনি। শনিবার ভোরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন।

পুলিশের কাছে আসিফ দাবি করেছেন, নিমিষা সিলিং ফ্যানে ঝু’লন্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন। তবে তার এই বক্তব্য এখনো গ্রহণ করেনি পুলিশ। গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘটনাটি হ’ত্যাকাণ্ডের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ও মেঝেতে র’ক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে পরিবারের বন্ধু গৌতম দাসের দাবি, রাত ২টার দিকে নিমিষা তার মাকে ফোন করেছিলেন। ওই সময় তিনি কাঁদছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা’। এরপর তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন গৌতম। তবে ফোনে এমন কথা বলার বিষয়টি এখনো পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

হোমস্টের রাঁধুনি ও তত্ত্বাবধায়ক বিপুল বৈলুংও রাতে একজন পুরুষের চিৎকার শোনার দাবি করেছেন। পরে কান্নার শব্দ শুনে তিনি ও অন্য কর্মীরা সংশ্লিষ্ট কক্ষের কাছে গেলে নিমিষাকে মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় এবং এক যুবককে তাকে ধরে থাকা অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান।

ঘটনার পর পুলিশ হোমস্টের মালিক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিমিষার ম’রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ’ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিমিষা হিন্দু এবং আসিফ মুসলিম হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। তারা ‘লাভ জিহাদ’-এর অ’ভিযোগ তুলেছে। তবে এ দাবির পক্ষে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণের কথা জানায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 76 = 85