Friday, November 6

মাদক পাচারের মামলায় মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মাদক পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের এ সাজা দেওয়া হয়। তবে আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাহ খলিফা ও মামলার অন্য আসামিরা একটি অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ওই চক্র মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে সেগুলো ব্যবহার করে মাদক তৈরি ও বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হতো। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

গত মাসেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি মিসরের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। এক মাস পর সেই মতামত পাওয়ার পর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে রায় নিশ্চিত করে।

মামলার বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয়, আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা কাঁচামাল জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলায় আসামিদের কথোপকথন ও ভিডিও ক্লিপসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার আল-ইয়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুনানির সময় বিচারক সারাহ খলিফার কাছে মামলায় তার কথিত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তিনি দাবি করেন, এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি। মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে সেগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার সময়ই প্রথম তিনি মাদক দেখেন বলে আদালতকে জানান।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর মিসরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

Leave A Reply


Math Captcha
3 + 7 =