নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে রাশুয়া জেলায় মাত্র ৪৫ দিনের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। দুর্যোগে যখন একের পর এক মানুষের নিখোঁজ ও মৃত্যুর খবর আসছে, তখন ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে দেড় মাসের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বন্যাকবলিত রাশুয়া এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে নেওয়া হয়। বন্যায় আটকে পড়া বহু মানুষের মধ্যে শিশুটিও ছিল।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে কোলে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন উদ্ধারকারী বিপজ্জনক এলাকা থেকে শিশুটিকে কোলে করে বের করে আনছেন। চারপাশে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য মানুষের মনে গভীর আবেগ তৈরি করেছে।
জানা গেছে, শিশুটির বয়স প্রায় ৪৫ দিন বা দেড় মাস। তাকে বন্যাকবলিত রাশুয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে নেওয়া হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও উদ্ধারের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকিছু কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করেনি। ফলে নিশ্চিত তথ্যের বাইরে থাকা দাবিগুলো যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখনো বহু পরিবার স্বজনদের সন্ধানে রয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে খাবার, আশ্রয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে মাত্র ৪৫ দিনের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই ভয়াবহতার মাঝেও মানবিকতা ও আশার এক উজ্জ্বল বার্তা হয়ে এসেছে।

