Friday, November 6

নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডের পর এবার আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। তিব্বত থেকে নেমে আসা পানির ঢল ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও গণ্ডক নদী হয়ে বিহারে প্রবেশের আশঙ্কায় পুরো রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

পানির ঢল মোকাবিলায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর আশপাশের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণ জেলায় বন্যার আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নদীর বাঁধ ও আশপাশের এলাকায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রাতে নাইট প্যাট্রোলিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের আশঙ্কা, নেপাল থেকে গণ্ডক নদী দিয়ে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি বিহারে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাল্মীকিনগরে গণ্ডক ব্যারেজের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলীরা ব্যারেজের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে বন্যার আশঙ্কায় বাল্মীকিনগরের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বন্যপ্রাণী সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

বিহার সরকার জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানি গণ্ডক নদীতে প্রবেশ করে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে উত্তর বিহারের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমধসের পর নেপালে ভয়াবহ জলউচ্ছ্বাস দেখা দেয়। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দেশটির কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
28 − 25 =