Friday, November 6

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির একটি নির্বাচনী বিলবোর্ড ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তেল আবিবের আয়ালন হাইওয়ের পাশে স্থাপন করা ওই বিলবোর্ডে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেমের ছবি পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিলবোর্ডের বার্তায় দাবি করা হয়েছে, এসব ব্যক্তি নেতানিয়াহুর নির্বাচনী পরাজয় দেখতে চান। এ কারণে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই প্রচারণার ছবি প্রকাশ করেছেন।

লিকুদ পার্টির এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে অবশ্য বিরোধী দলগুলোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও পাল্টা প্রচারণার মাধ্যমে নেতানিয়াহু এবং তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলকে আক্রমণ করছে।

সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’ লিকুদের বিলবোর্ডের বার্তা পরিবর্তন করে পাল্টা প্রচারণা চালিয়েছে। তাদের ব্যঙ্গাত্মক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠিক রাখতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখা উচিত নয়।

এদিকে বিরোধী সংসদ সদস্য নামা লাজিমিও লিকুদ পার্টিকে লক্ষ্য করে পাল্টা প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টার ছবি ব্যবহার করে কথিত ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, ইরান ও আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রবণতা এবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লিকুদের এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য ভোটারদের সামনে আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টিকে শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হিসেবে নয়, বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসন, নিরাপত্তা নীতি এবং তাঁর সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে সামনে এনে ভোটারদের কাছে বিকল্প রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ফলে নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের রাজনীতিতে শুধু দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বিলবোর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণাও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
66 + = 72