গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে মিসরের রাজধানী কায়রো যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক নেতা ও প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া।
হামাসের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি ও আনাদোলু জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাসের নেতৃত্ব গ্রহণের পর এটি হবে আল-হাইয়ার প্রথম মিসর সফর। রোববার সকালে তিনি মিসরের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ইসরাইল ও মিসর সফর করবেন। গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতপার্থক্য কমানোই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
কুশনারের সঙ্গে ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজার জন্য উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভও থাকবেন।
এর আগে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই পরিকল্পনায় হামাস নতুন একটি ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেন, নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছে হামাস।
আলোচনার মধ্যেই গাজায় হামলা
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সরকারি সূত্রের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।

