Friday, November 6

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোল্লাম জেলায় পুলিশি হেফাজতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৯ বছর বয়সী মুসলিম যুবক সিয়াদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার দাবি করেছে, পুলিশি নির্যাতনের ফলে তাঁর পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং পরে ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়, যার পরিণতিতে তিনি মারা যান।

কুন্দারা এলাকার একটি বেসরকারি বাসের চালক সিয়াদ গত শনিবার তিরুঅনন্তপুরম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ভাঙা পাঁজরের হাড় এবং তীব্র ফুসফুসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৬ জুন রাতে প্রতিবেশীর ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সিয়াদকে আটক করে। তবে পরদিন সকালে শিশুটি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে এলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

অভিযোগকারী প্রতিবেশী নারী জানিয়েছেন, সিয়াদকে পুলিশ জিপে তোলার পরই একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি জিপের ভেতরেই ছিলাম। ব্যথা ও যন্ত্রণায় সিয়াদ চিৎকার করছিল।”

সিয়াদের বাবা বদরুদ্দিন ও মা আরিফা বিবি জানান, তাঁদের ছেলে বাড়িতে ফিরে জানিয়েছিল যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে পুলিশ তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করেছে। ঘটনার আগে তাঁর কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। নির্যাতনের পর টানা আট দিন তিনি ঠিকমতো পানি পর্যন্ত পান করতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে প্রথমে কোল্লাম জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রেতে তাঁর পাঁজরের হাড় ভাঙার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে তিরুঅনন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সিয়াদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।

বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত জেলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের উপ-পুলিশ সুপারের (ডিওয়াইএসপি) তত্ত্বাবধানে চলছে। তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে কেরালাজুড়ে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে কুন্দারা থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। রাজনৈতিক নেতারাও দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সমালোচকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একজন যুবকের মৃত্যুই নয়, বরং পুলিশি হেফাজতে মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
38 − 34 =