Friday, November 6

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরির অভিযোগে মার্কিন প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল সরকারের দুই কর্মকর্তা।

ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া দুই মার্কিন কর্মকর্তা হলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব রাইলি এম. বার্নস এবং উপসহকারী সচিব স্যামুয়েল স্যামসন। ব্রাজিলীয় কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের সফরের উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করা।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত।

ব্রাজিল সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটিং ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধিদলের ভিসার আবেদন বাতিল করা হয়।

তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বার্নস ও স্যামসনের সফরটি ছিল মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনার অংশ। নির্বাচনকে দুর্বল করার অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে, বাবার অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আসছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেশটির নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1