পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকবোঝাই যানবাহন নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এ ঘটনায় ১২ সেনাসদস্যসহ মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর পাল্টা অভিযানে ১২ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ট্যাংক জেলায় বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথভাবে পরিচালিত একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলাটি সংঘটিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে নিরাপত্তা চৌকিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হলে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চৌকির বাইরের দেয়ালে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন সেনাসদস্যসহ মোট ১৫ জন নিহত হন।
হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী অংশ নিয়েছিল।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জন জঙ্গিকে হত্যা করে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে টিটিপি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির লক্ষ্য দেশটিতে তাদের কট্টরপন্থী ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, টিটিপি সদস্যরা আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থান করে হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তবে আফগানিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পাকিস্তানের জঙ্গিবাদ তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

