আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রকাশিত প্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের হামলা হলে চলমান শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল–এর উদ্ধৃতি দিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল ও ইরানের আলোচকদের নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনও আগের মতোই ‘ভুয়া খবর’।
প্রতিবেদনটিতে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সেখানে আরও দাবি করা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ইসরায়েলের যুদ্ধ কৌশলের একটি অংশ ছিল এবং চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শান্তি আলোচনা শুরুর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বেড়ে যায়।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠক শেষে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো বড় অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ মুক্ত করার বিষয় গুরুত্ব পায়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দোহার বৈঠকে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং আগের বৈঠকের ভিত্তিতেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

