Thursday, August 20

রাজধানীতে তীব্র গ্যাসসংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। কোথাও গ্যাস নেই, কোথাও আবার চাপ এত কম যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না।

উত্তরা, কুড়িল, রামপুরা, তেজগাঁও, মগবাজার ও মিরপুরের বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের অপেক্ষায় ৫০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত গাড়ি সারিবদ্ধ হয়ে রয়েছে। অনেক চালককে দিনে দুই থেকে তিনবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে গ্যাস সংগ্রহেই ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা চলে যাচ্ছে।

ফলে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাওয়ায় চালকদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু আয় কমলেও গাড়ির মালিককে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. গোলাপ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চালকদের আয় কমলেও মালিকরা জমার টাকায় কোনো ছাড় দিচ্ছেন না।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাবে আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দেয়।

সম্প্রতি দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার সরবরাহ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে। ১৩ ও ১৪ আগস্ট দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৩১ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পনা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণেই বর্তমান সংকট আরও প্রকট হয়েছে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে এমন সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান জটিলতা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
11 − = 6