যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং মার্কিন উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘিরে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির সুযোগ যাচাই করা।
এই ঘোষণার পর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড–এর দাম ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০০.৬০ ডলারে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলার হুমকি দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কথাও জানান।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান স্যাক্সো ব্যাংক–এর কৌশলবিদ চারু চানানা বলেন, এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও এটি এখনই বড় কোনো পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। তার মতে, বাজারের মূল প্রশ্ন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে কি না—এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং এখন তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
তবে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে, অথচ ইরান এখনো তাদের পদক্ষেপের শুরুতেই রয়েছে।

