Saturday, April 18

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার দাদি ও নাতনিকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শরিফুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর ইসলাম।

তিনি জানান, প্রধান আসামিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটার পরদিন সন্দেহভাজন হিসেবে শরিফুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মর্জিনা খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় ঘটনার দিনই রাত ১২টার দিকে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাড়ির বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে তারা আবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

পরদিন সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার নাতনি জামিলা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, জামিলা আক্তারের বাবা-মায়ের মধ্যে অনেক আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা ছিলেন সবার ছোট। তিনি দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই বসবাস করতেন। জামিলা কোরআনের হাফিজিয়া পড়ার পাশাপাশি পাশের একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

Leave A Reply


Math Captcha
76 + = 78