রাজধানীর পল্লবীর পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুল-এর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে তার রোল নম্বর ছিল এক। প্লে ও কেজিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল সে। ঘরে সাজানো রয়েছে তার অর্জিত ট্রফিগুলো।

বিকেলে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তার বারবার বোনের ট্রফিগুলোর দিকে তাকিয়ে কান্না করছিল। সে বলে, “আমার বোন খুব ভালো ছাত্রী ছিল। পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল।”

রামিসার মা পারভিন বেগম জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। বড় মেয়ে অন্য বিল্ডিংয়ে চাচার বাসায় গেলে তিনি ভেবেছিলেন রামিসাও সঙ্গে গেছে। কিছুক্ষণ পর মেয়ের চিৎকার শুনে খোঁজ করতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পান।

তিনি বলেন, “দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না। পরে স্থানীয়রা এসে দরজা ভেঙে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।”

নিহতের চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানার নিচে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পান। পরে বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে পালাতে সহায়তা করেন।

রামিসার ক্লাস শিক্ষক মাহবুবুল হাকিম বলেন, “সে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগেই স্কুলে চলে আসত। আজ না আসায় চিন্তিত ছিলাম। পরে শুনি তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রামিসা অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আগামীকাল স্কুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।”

পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে যাওয়া সোহেল রানাকে সন্ধ্যায় ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
5 + 1 =