ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি:
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগাম নির্বাচনি প্রচারণা, আচরণ ও সাম্প্রতিক ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এই ঘটনাকে অযৌক্তিকভাবে নাটকীয় রূপ দিয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন দাবি করেন, নির্বাচনি প্রচারণার বিধিসম্মত সময় শুরু হওয়ার অনেক আগেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোট চাইতে শুরু করেন। তার কথাবার্তা ও আচরণে ঔদ্ধত্য এবং ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে মুখরোচক বক্তব্য সবার নজরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, দেশি-বিদেশি মানুষের সামনে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, ভোটারদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে মিথ্যাচার—সবই হয়তো আলোচনায় থাকার কৌশল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে অবিরত অশালীন আচরণ করা হলেও তিনি ধৈর্য ও ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন।
ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, দুঃখজনকভাবে ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনো প্রমাণ, তদন্ত বা সাক্ষ্য ছাড়াই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেন—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থনে এবং মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ছাত্রদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন না। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে কলেজে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। মাহদী আমিন প্রশ্ন তোলেন, আমন্ত্রণ না থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি বহিরাগত লোকজন নিয়ে কলেজে প্রবেশ করলেন, কারা ডিম প্রস্তুত রেখেছিল, কারা মারামারিতে জড়িয়েছে এবং এসব ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস বা ছাত্রদলের সম্পর্কই বা কী—সবই রহস্যজনক।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই যেকোনো ঘটনায় তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা নিয়মিত এমন আচরণ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জনরোষের শিকার হয়েছেন—এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
শেষে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন যেন অযৌক্তিক নাটকীয়তার মঞ্চে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

