ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় ডাকসু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফসহ অন্য নেতারা।
প্রভোস্টের কক্ষে নির্যাতনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের কক্ষে একজন শিক্ষার্থী ও এক কর্মচারীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে প্রভোস্টের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান তারা।
মহিউদ্দিন খানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা করছে। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি যে সিসিটিভি ফুটেজ আসলে কী অবস্থায় আছে। আমরা জানি না, তারা কী কারণে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে চাচ্ছে না।’
‘ফুটেজ অবিকৃত অবস্থায় প্রকাশ করতে হবে’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, একজন শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফরহাদ বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সবার জন্য ওপেন করতে হবে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ অবিকৃত অবস্থায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের দেখাতে হবে।’
ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দ্রুত বরখাস্ত করার দাবি জানান তিনি। আর ফুটেজ পাওয়া না গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘কোনো যদি-কিন্তু ছাড়াই আমরা ধরে নেব তিনি অপরাধী এবং তাকে পদচ্যুত করতে হবে।’
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগও তুলেছে ডাকসু। এজিএস মহিউদ্দিন খান দাবি করেন, প্রশাসনকে রক্ষায় ক্যাম্পাসে আগে ছাত্রলীগের যে ভূমিকা ছিল, ছাত্রদলও একইভাবে ‘লাঠিয়াল বাহিনীর’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান করবে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো হলেই কোনো নিপীড়ক, কোনো ছাত্র সংগঠন, কোনো শিক্ষক, কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী; কোনো ধরনের নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে অন্য হল সংসদ, অন্য হলের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর যে কেউ সেখানে গিয়ে এটা প্রতিরোধ করবে। এটাই আমাদের নিয়ম, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নিপীড়নকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘তারা আসলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি না, তারা দলদাস বাহিনী।’
চার দফা দাবিতে ডাকসু
সংবাদ সম্মেলন থেকে ডাকসু অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি জানায়।
একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।

