ঢাকা | ৫ আগস্ট ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
🔹 নিরাপত্তা জোরদার
উপাচার্য জানান, ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৬ আগস্টও বহাল থাকবে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
🔹 আহতদের চিকিৎসায় বৈষম্য হবে না
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংঘর্ষে আহত সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সংগঠনভিত্তিক বৈষম্য করা হবে না।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছে। তিনি বলেন, “যে সংগঠনেরই হোক, আহত প্রত্যেক শিক্ষার্থী দ্রুত চিকিৎসা পাবে।”
🔹 তদন্ত কমিটি
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
🔹 যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা চলাকালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন এবং মেডিক্যাল সেন্টারের সেবা উন্নয়নের দাবিতে জকসুর প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ সময় বাধা দেওয়া হলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
🔹 হাসপাতালেও উত্তেজনা
আহতদের জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে ছাত্রশিবির এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

