মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সামলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা যে সাহস, দৃঢ়তা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা ভবিষ্যতের সব সংকট মোকাবিলায় সাহস জোগাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত বছরের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, তিনজন অভিভাবক ও একজন আয়া নিহত হন। এছাড়া যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার এ দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুবাইদা রহমান মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীদের স্মরণে আয়োজিত নাম ও ছবির প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা দেশ ও জাতিকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আকস্মিক ও ভয়াবহ এই ঘটনার পর সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। যাঁরা আপনজন হারিয়েছেন, তাঁদের শোকে পুরো জাতি আজও সমব্যথী।
জুবাইদা রহমান বলেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যে মনোবল, সাহস এবং সংকল্প নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা কোনো দিন ভুলবে না জাতি। এই কঠিন সময়েও তাঁরা যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের অনুপ্রেরণা ও মানসিক শক্তিও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জীবনের ভবিষ্যৎ সংকটময় মুহূর্তগুলো মোকাবিলায় এই অভিজ্ঞতা তাঁদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং অন্যের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে আরও দৃঢ় করবে।
মানবিকতা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতার জন্য ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতি এখনও বেদনাদায়ক হলেও শঙ্কা ও ভয়কে জয় করে তাঁরা যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য দেশবাসী তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় উদ্ধার, চিকিৎসা ও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জুবাইদা রহমান। তিনি ফায়ার সার্ভিস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সংকটময় মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। কষ্টের মধ্যেও যে সাহসিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের নিদর্শন সেদিন দেখা গেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানবতার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, সত্যিকার অর্থেই ‘মানুষ মানুষের জন্য’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন সহযোগী দেশের রাষ্ট্রদূত ও চিকিৎসকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

