Thursday, November 5

উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকরা। এ অবস্থায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহমত জানিয়ে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ইন্ধন ও তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং দলটির সমর্থক কয়েকজন ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তালিকায় চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগপন্থি পাঁচ ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামানো এবং শিল্প খাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার এসব অভিযোগ ঘিরে তৈরি পোশাকশিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সেপাল গ্রুপ, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের রেনেসাঁ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্টফ অ্যাপারেল, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর হামিদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হামিদ সোয়েটার্স লিমিটেড এবং সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফেবিয়ান গার্মেন্টস লিমিটেডের নাম এসেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় থাকা মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা। ফয়জুর রহমান বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা। মো. খসরু চৌধুরী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক। আব্দুস সালাম চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা। আর জাহিদ আহমেদ টুলু মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা।

এ ছাড়া সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিজে অর্থ সহায়তার মাধ্যমে কয়েকজন আওয়ামী লীগপন্থির আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক অবস্থায় ফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ এবং সহিংসতার ঘটনায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের নাম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসার বিষয়টি স্থানীয় শিল্প ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং শিল্পের স্বাভাবিক উৎপাদন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave A Reply


Math Captcha
6 + 3 =