Tuesday, October 27

ইরান ও তাদের মিত্ররা ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন বানচাল করতে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন কোনো হামলা হলে ইসরায়েল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেবে এবং পাল্টা আঘাত হবে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি—এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রোববার ইসরায়েলের একটি অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটিতে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের অভিযানের জন্যই প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা করতে যেয়ো না। তোমাদের ধারণার চেয়েও আমরা অনেক শক্তিশালী। হামলা চালালে তোমাদের ওপর এমন আঘাত আসবে, যা তোমরা কল্পনাও করোনি।’

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২৫ অক্টোবর রাতে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শুরু করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এপিক ফিউরি’।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা, নাকি দেশটিকে সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাস্ত করার পথে এগোনো—এমন দ্বিধার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের সঙ্গে সমঝোতা করব, নাকি তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেব? এটাই একমাত্র প্রশ্ন।’

‘আবার যুদ্ধ হলেও নীতিতে পরিবর্তন আসবে না’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের বর্তমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

তেহরানে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন করে যুদ্ধের আলোচনা চলছে। তবে এরই মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ভাবছে তেহরান।

আরাগচি বলেন, ‘তারা এরই মধ্যে দুবার এমন চেষ্টা করেছে এবং তার ফলও দেখেছে। আবার চেষ্টা করতে চাইলে তারা জানে, আগের চেয়ে ভিন্ন কোনো ফল পাবে না।’

স্থায়ী সমঝোতার চেষ্টা এখনো ব্যর্থ

ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমঝোতার চেষ্টা কয়েক মাস ধরে ব্যর্থ হচ্ছে। সংঘাতের নবম মাস ঘনিয়ে আসছে।

এর আগে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, ইরানের নৌপরিবহনের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

ফলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের পাশাপাশি দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
1 + 9 =