কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিজয়া দশমী উপলক্ষে ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে শুরু হয়ে মাত্র ৪৫ মিনিটে এসব প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এ আয়োজন দেখতে লাবণী, সিগাল, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। আয়োজকদের হিসাবে, দর্শনার্থীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি।
দুপুর ২টা থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা ট্রাক, ভ্যান ও কাঁধে করে সৈকতের বালুচরে নিয়ে আসতে শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিকেল ৪টার দিকে মঞ্চের সামনের বিশাল বালুচর কয়েক শ প্রতিমায় ভরে যায়। একদিকে চলছিল অতিথিদের বক্তব্য, অন্যদিকে প্রতিমা ঘিরে ভক্তরা ব্যস্ত ছিলেন শেষ মুহূর্তের পূজা-অর্চনায়।
বিকেল ৫টার দিকে সরস্বতীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত রানা ভট্টাচার্য মঞ্চে মন্ত্রপাঠ করেন। এরপর বিসর্জন শুরু হয়। প্রথমে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার আগেই সব প্রতিমার বিসর্জন শেষ হয়।
এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি মণ্ডপে প্রতিমাপূজা এবং ১৬৯টিতে ঘটপূজা হয়েছে। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহর, সদর উপজেলা, উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সৈকতে আনা হয়।
বিসর্জনের আগে বিভিন্ন মণ্ডপে মন্ত্রপাঠ, ঢাকের বাদ্য, ধূপ ও ফুলের অঞ্জলিতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। সৈকতে অনেকে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। বিসর্জনের সময় পুরো সৈকতজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার আবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে সৈকত ও শহরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এ আয়োজন কক্সবাজারের সম্প্রীতির পরিচয় তুলে ধরেছে। যেকোনো মূল্যে এ সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

