মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগে যারা নিজেদের বিজয়ী ভাবছেন, তারা ‘মহাবোকা’।
জুমা লিখেছেন, ‘ইশরাক হোসেনের পদত্যাগে যারা ভাবতেছেন জিতে গেছেন, আপনারা মহাবোকা। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে এই একটা লোক ছিল যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও জুলাইয়ের শক্তি।’
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘ইশরাকের মতো ত্যাগীরা পদত্যাগের নির্দেশ পায় আর নুর-রাশেদের মতো হাইব্রিড চাটাগুলো ভাঁড় বকে বিএনপির এতো ক্ষতি করার পরেও কোনো টুঁশব্দ হয় না।’
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই বিএনপি সাস্টেইন করবে কীভাবে?’
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তিনি কোনো ভুল করেননি। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের কার্যক্রম যেন ম্লান না হয়, সেই বিবেচনায় তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে তাকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।’
ইশরাক আরও জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের বাইরে থেকেও ঢাকা-৬ আসন ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ তারিখ শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় ঘিরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী কক্ষে প্রবেশ করলে ইশরাক তাঁদের বাইরে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অনেকেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেও মাদক নির্মূলসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইশরাক।

