Monday, October 19

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও সোনার পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। রান্নার ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে লুকিয়ে এবং মানবদেহের রেক্টামে বিশেষ কৌশলে বহন করা হচ্ছিল এসব সোনা ও সোনার পেস্ট।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৪৬৬ গ্রাম ওজনের চারটি খণ্ডিত সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এগুলো রান্নার ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে লুকানো ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা আগে থেকেই বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস৩৫০ ফ্লাইটে আসা যাত্রী কামরুল ইসলামের ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব সোনা উদ্ধার করা হয়।

ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত সোনা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ঘোষিত স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম সোনা আটক করা হয়। শুল্ক-করসহ আটক সোনার আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও বড় একটি সোনার চালান উদ্ধার করা হয়। মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস৩৩৮ ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর রেক্টাম থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্টের বস্তু উদ্ধার করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার করা বস্তুগুলোর প্রাথমিক মোট ওজন পাওয়া যায় ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।

তবে দুই যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা সোনার পেস্টে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণের স্বার্থে বস্তুগুলো অবিকৃত রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের ওজন ও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, নিবিড় নজরদারি এবং ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 11 = 18