Monday, October 19

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হামলার আশঙ্কার কথা জানালেন ইশরাক

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, গেন্ডারিয়ায় যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ অবস্থায় সম্ভাব্য হামলা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

অভিযানে ছয়জন আটক

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন কয়েকটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় মাদক কারবারে জড়িত ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তবে গেন্ডারিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করার পর থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে; সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযানের সময় অস্ত্র হাতে তাঁর কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবেদন করা হলেও অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি, মাদক উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এর আগে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনকে কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্তের নির্দেশ পেয়েছে বলেও একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঢাকা-৬কে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার

ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাবেন। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর দাবি, একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রম থামানো যাবে না। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 56 = 62