দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণ অনুযায়ী, অকালবোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার শাস্ত্রীয় আচার পালনের পর আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব।
এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় ছয় দিন ধরে চলবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখতে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে পূজা
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি।
তবে ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজার আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে।
ছয় দিন ধরে চলবে দুর্গোৎসব
প্রচলিত নিয়মে মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। তবে এ বছর তিথির বিশেষ বিন্যাসের কারণে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিন ধরে চলবে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার অতিরিক্ত সপ্তমী-সংক্রান্ত পূজার আনুষ্ঠানিকতা, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী পালিত হবে। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে তাতে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান
পূজা চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আজান ও নামাজের সময় মসজিদের আশপাশের পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
- ০২২২৩৩৮০৬৬১
- ০২২২৩৩৮১৯৬৭
- ০১৩২০০০১২৯৯
- ০১৩২০০০১৩০০
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)
- ০২২২৩৩৫৫৫০০
- ০১৮১৭৬০২০৫০
ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
- ০২৯৬১১৩৫৩
- ০১৭০৫৫০৫৫২৯
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
- ০২২২৩৩৫৫৫৫৫
- ০১৭১৩০৩৮১৮১
- ০১৭১৩০৩৮১৮২
- ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা, গুজব এড়িয়ে চলা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

