সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগে পড়েছেন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসল্লিরা। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনার পর অনেকে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। হামলার সময় বিমানবন্দরে মক্কাগামী সাদা পোশাক পরা বহু মুসল্লি ছিলেন। খবর রয়টার্সের।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি এক ইমামও রয়েছেন, যিনি কয়েক ডজন ওমরাহযাত্রীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। হামলায় আরও কয়েকজন মুসল্লি আহত হন।
নিরাপত্তা সতর্কতায় উদ্বেগ
হুতিরা জানিয়েছে, মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে হামলা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। সৌদি বাহিনীর হামলার জবাবে এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মক্কায় থাকা জর্ডানের নাগরিক ফাদি আনোয়ার রয়টার্সকে জানান, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে নিয়মিত সতর্কবার্তা আসছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সৌদি কর্মকর্তারা দেশটিকে নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করলেও পশ্চিমা কয়েকটি সরকার সৌদি আরবের অধিকাংশ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। হামলার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইটও বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
বিকল্প পথে যাতায়াতের চেষ্টা
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ওমরাহযাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীদের যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে। কেউ কেউ রিয়াদ থেকে বিমানে যাত্রার পরিবর্তে সড়কপথে কাতার, বাহরাইন বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দোহা ও দুবাইগামী সড়ক পরিবহন পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব গন্তব্যে যাতায়াতের ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে।
সুদানের নাগরিক আল আমিন হাসান মোহাম্মদ জানান, হামলার সময় তিনি সৌদি আরবে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। ঘটনার পর তিনি ও প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হয়ে উদ্বেগের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কয়েকজন পরিচিত রিয়াদ হয়ে যাত্রার পরিকল্পনা বাতিল করে জেদ্দা থেকে নৌপথে সুদানে ফিরে গেছেন।
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের শিকড় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাও আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচল, ভ্রমণ এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ওপর।
সূত্র: রয়টার্স

