Friday, November 6

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত আগস্টে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়েও তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনায় অটল থাকার কথা জানিয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ডিসেম্বর ঘিরে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনগতভাবে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও ডিসেম্বরকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে আলোচনা

পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই সময়ে অন্যান্য মামলা ও অভিযানে আরও ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২৮ জন গ্রেপ্তার হন।

সাম্প্রতিক সময়েও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি মিছিলের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

দেশে ফিরলে গ্রেপ্তারের কথা সরকারের

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে—সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবস্থান আগেই জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জুলাইয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনা নিজেও দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা কারাবরণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনায় অটল থাকার কথা জানিয়েছেন।

সামনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের বিশ্লেষণ রয়েছে। কেউ এটিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, প্রত্যর্পণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর তার দেশে ফেরা নির্ভর করবে।

তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে তার প্রত্যাবর্তনের বাস্তবতা, আইনগত প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 30 = 31