Friday, November 6

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম জ্বালানি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী একটি বিমান ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের পর পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন।

শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনটি লরিতে করে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

পথে মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে ঢাকা থেকে সড়কপথে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রওনা হয়। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব জ্বালানি দেশে আনার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম চালান জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি রূপপুরে পৌঁছায়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে লোড করা হয়।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার প্রায় দেড় বছর পর ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম দেশে আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময় পরপর রিফুয়েলিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানি করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে।

চলতি মাসে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভালভের প্রথম দুটি পরীক্ষা সফল হলেও তৃতীয় পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। ফলে তৃতীয় ভালভটি পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
30 − 25 =