রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ইউরেনিয়ামের একটি চালান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বিমান থেকে ইউরেনিয়ামবাহী চালান গাড়িতে তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর শনিবার ভোর ৪টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও ওই চালান দেশে আসেনি।
শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানিবাহী বিমানটি রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হবে।
জানা গেছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসবে। এসব চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। গত বুধবার সকালে ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম বৃহস্পতিবার জানায়, ত্রুটি সংশোধনের পর মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষা শুরু হয় এবং বুধবার সকালে তা সফলভাবে শেষ করা হয়। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়।
পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভাল্ভগুলোর কার্যকারিতা, সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভাল্ভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ভাল্ভের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রোসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

