ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি। একনেক গত ১৬ জুন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে কৃষিকাজ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফেনীতে প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানিতে মুহুরী নদীর বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীর পাশে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও পুনর্বাসনের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে তাঁর দিনের অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে।

