আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণের চিত্রে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
সরকারি নানা উদ্যোগ, উপবৃত্তি ও শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। ইউনিসেফের তথ্যেও দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের ভর্তির হার প্রায় সর্বজনীন হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়ে; মেয়েদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পেছনে বাল্যবিবাহ অন্যতম বড় কারণ। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের স্কুলে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বেশি। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ তখন বিবাহিত ছিল।
শুধু বাল্যবিবাহ নয়, দারিদ্র্য, শিক্ষার ব্যয়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগও মেয়েদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করতে পারে। ইউনিসেফের বিশ্লেষণেও এসব কারণে শিশুদের শিক্ষা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে।
কন্যাশিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোই শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয়; তাকে শিক্ষার ধারাবাহিকতায় ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ, আর্থিক সহায়তা, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কন্যাশিশুর শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যতের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের মানবসম্পদের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে বিদ্যালয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণের সাফল্যের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

