Friday, November 6

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ভাগ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথির এখনো হদিস মেলেনি। ২০২২ সালের আগস্টে ঢাকা বন্ড কমিশনারেটকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করার সময় এসব নথি হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানা গেছে।

নথি না থাকলেও ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছে। তবে এসব নথির মধ্যে সরকারের বড় অঙ্কের নিরঙ্কুশ বকেয়া সংক্রান্ত কাগজপত্রও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে সামনে আসার পর নথি খুঁজে বের করতে তৎপর হয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট। সরকারের পাওনা সংক্রান্ত বকেয়ার নথি শনাক্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদী। একই সঙ্গে কমিশনারেট ভাগের সময় হস্তান্তর না হওয়া নথির সন্ধানেও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন কর্মকর্তাকে।

২ হাজার ৬০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নথি মিলেছে ১ হাজার ৭১৫টির

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্র জানায়, ২০২২ সালের আগস্টে বন্ড কমিশনারেট ভাগ হওয়ার পর ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের আওতায় আসে ২ হাজার ৬০৮টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট ১ হাজার ৭১৫টি প্রতিষ্ঠানের নথি উত্তর কমিশনারেটে হস্তান্তর করে।

বাকি ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে পরবর্তী সময়ে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট থেকে চিঠি দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে উত্তর বন্ডের তৎকালীন উপকমিশনার চপল চাকমা নথিগুলো চেয়ে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটকে দুই দফা চিঠি দেন। জবাবে দক্ষিণ বন্ডের তৎকালীন উপকমিশনার সাদিয়া আফরোজ উত্তর বন্ডের কাছে নথি না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা চান।

পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ বন্ডের তৎকালীন কমিশনার আহসানুল হক নথি হস্তান্তর না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। তবে সে সময়ও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি।

তিন বছর কার্যত নীরবতা

এনবিআর সূত্রের ভাষ্য, ২০২৩ সালের পর নথিগুলো উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উত্তর বন্ড কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে আর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট থেকেও বিষয়টি নিয়ে আর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফলে চার বছর ধরে ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথি কোথায় রয়েছে, তা অজানাই থেকে যায়।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে নতুন কমিশনার যোগ দেওয়ার পর এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বিষয়টি আবার সামনে আসে। গত ১২ সেপ্টেম্বর নিরঙ্কুশ বকেয়া আদায় ও নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চার বছর ধরে এসব নথি নিখোঁজ থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদী বলেন, এনবিআরের নির্দেশনায় রাজস্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকারের নিরঙ্কুশ বকেয়া নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল। সরকারের পাওনা খুঁজতে গিয়ে নথির বিষয়টি সামনে আসে। নথির সন্ধানে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বকেয়ার ফাইলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

শুধু ঢাকা দক্ষিণ বন্ড থেকে উত্তর বন্ডে হস্তান্তর না হওয়া ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথিই নয়, ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের নিজস্ব সংরক্ষণে থাকা নিরঙ্কুশ বকেয়ার অনেক ফাইলও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ কারণে নিখোঁজ নথির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট

Leave A Reply


Math Captcha
66 − 56 =