Thursday, July 16

রাবি প্রতিনিধি: জয়নাল ইসলাম সাদেক, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাবি লেখক ফোরামের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় জেনারেশন জেডকে রাজনীতি-অনাগ্রহী বা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম হিসেবে দেখা হলেও তারাই এমন একটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, যা দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো করতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে এবং এ থেকে রাজনীতিবিদদেরও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে দেড় বছর পরও জুলাই আন্দোলনের চেতনা মানুষের মধ্যে জীবন্ত রয়েছে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়।’

রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আত্মসমালোচনা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। তিনি রাজনৈতিক বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও তরুণদের নতুন বাস্তবতায় দেশমুখী চিন্তা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগ যেন বিস্মৃত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাকসু সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের নেতৃত্বকে সরানো গেলেও তার ন্যারেটিভ, প্রশাসনিক কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পরও সেই প্রত্যাশা পূরণ না হয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিদ্যমান সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যদি দুর্নীতি, বৈষম্য, দমন-পীড়ন রোধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্ষম হতো, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রয়োজন পড়ত না। আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল এসব কাঠামোগত সংকটের সমাধান নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী, রাবি লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মু. শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

Leave A Reply


Math Captcha
77 + = 79