Saturday, April 18

খুলনায় যাত্রীবেশে এসে অটোরিকশাচালককে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আহত চালক রনির জ্ঞান ফেরেনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রনির মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি এখনো অচেতন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে রনি খুলনা নগরীর খালিশপুর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন। সকালবেলা এক দুর্বৃত্ত যাত্রী সেজে বড় মির্জাপুর হয়ে মির্জাপুর ক্রসরোড এলাকায় যাওয়ার কথা বলে তার অটোরিকশায় ওঠে।

নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ ওই যাত্রী হাতুড়ি দিয়ে রনির মাথায় পরপর একাধিক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্ত অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং দুপুর ২টার দিকে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বুধবার সকালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

আহত রনির স্ত্রী মুক্তা বলেন, “আমার স্বামী একজন অটোরিকশাচালক ও মিস্ত্রি। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ সে। প্রায় এক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিল। সেই গাড়ি দিয়েই সংসার চলত। এখন স্বামী কথা বলতে পারছে না, জ্ঞানও ফেরেনি, আর গাড়িটাও নেই। চিকিৎসার খরচ আর সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।”

এদিকে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আহত রনির বাড়ি খালিশপুর এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করা হয়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

Leave A Reply


Math Captcha
3 + = 7